আনুষ্ঠানিকতার জন্য ত্রাণ নিতে আসা মানুষজনদের বসিয়ে রাখা হলো তিন ঘণ্টা

আনুষ্ঠানিকতার জন্য ত্রাণ নিতে আসা মানুষজনদের বসিয়ে রাখা হলো তিন ঘণ্টা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাড়ে পাঁচশ মানুষ। শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য ত্রাণ নিতে আসা মানুষজনদের খোলা মাঠে বসিয়ে রাখা হয় প্রায় তিন ঘণ্টা।

মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার উদ্যোগে শহরের নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে ত্রাণসহায়তা বিতরণের আয়োজন করা হয়। কিন্তু অতিথি আগমনে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে দেয়া হয়নি ত্রাণ। এতে বিরক্ত হয়ে অনেকে ত্রাণসহায়তা না নিয়েই বাড়ি চলে যেতে উদ্যত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টায় নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে হতদরিদ্রদের ত্রাণসহায়তা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) তপন কান্তি ঘোষ। ত্রাণসহায়তা দেয়ার জন্য স্টেডিয়ামে সাড়ে পাঁচশ হতদরিদ্র মানুষকে জড়ো করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টায় ত্রাণ বিতরণের কথা থাকলেও অতিথির আগমনে বিলম্ব হওয়ায় ত্রাণসহায়তা প্রার্থীদের বসিয়ে রাখা হয় মাঠে।

অনেকেই নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠানস্থলে চলে যান। ফলে রোজা রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে অনেকেই ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে দুপুর সোয়া ১২টায় অনুষ্ঠানস্থলে আসেন সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এরপর শুরু হয় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম।

ত্রাণ বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ নিতে আসা প্রসন্ন দাস নামে একজন জানান, ত্রাণ নেয়ার জন্য সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি স্টেডিয়ামে যান। কিন্তু তাকে ২০ মিনিট পর মাঠে ঢোকানো হয়। এরপর অতিথিরা আসার পর সোয়া ১২টায় ত্রাণ দেয়া হয় তাকে।

ত্রাণসহায়তা নিতে আসা হোসনা নামে এক নারী জানান, ত্রাণ নেয়ার জন্য অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেককে বাড়ির কাজ ফেলে মাঠে বসে থাকতে হয়েছে। ত্রাণের জন্য দীর্ঘ সময় বসে থেকে বয়স্কদের বেশি কষ্ট হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির সাংবাদিকদের বলেন, ত্রাণসহায়তা প্রার্থীরা সকাল ৯টায় চলে এসেছেন। সচিব ঢাকা থেকে এসেছেন সাড়ে ১০টায়। উনি আমাদের নিয়ে আবার মতবিনিময় করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলে যেতে যেতে সাড়ে ১১টা বেজেছে। সচিব শুধু উদ্বোধন করেছেন। পরে আমরা সবাইকে ত্রাণ দিয়েছি।

Leave a Comment