আমার ‘মা’ সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ

আফজাল হোসাইন মিয়াজী

“মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু জেনো ভাই,
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
ত্রিভুবনে নাই।”

‘মা’ পৃথিবীতে আসার একমাত্র মাধ্যম।জন্মের সময় এতটা ছোট্ট ছিলাম যে, আমাকে নাকি পুতুলের জামা পরানো হয়েছিল।
জন্মের পর আমিই হয়ে উঠলাম মায়ের অতিপ্রিয়, অতি আপনজন।’মা’ আমার জন্য শান্তিতে বসে থাকতে পারেনি, খেতে পারনি, এমনকি রাত্রিতেও শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। কত রাত বিনিদ্র আঁখিতে আমাকে দেখেছিল, কত রাত জেগে সেবা-শুশ্রূষা করেছিল।আজ আমি শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ। কালো কেশে মোর শুভ্রতা ছোঁয়া লেগেছে। মায়ের কাছে আজো সেই ছোট্ট মানিক।

যতদূর মনে পড়ে ছোট্ট বেলায় জ্বর হলে মা লেবু খাওয়াতেন, এটা সেটা আরও কত কি?
যখন পেটে ব্যথা হত গরম পানি, নাভিতে চুনসহ আরো কত চিকিৎসা।জন্ডিস হলে আখের রস, কাঁকড়া ভাজি, গুড়ের শরবত ইত্যাদি। পেটের অসুখে মেদা পাতা, কাঁচা কলা, বেলের শরবত। এভাবে বর্ননাতীত সকল অসুস্থতায় মা চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন।

সম্প্রতি ছোট্ট একটা দূর্ঘটনা ঘটল। হেলায় হাত ভেঙ্গে গেল। অর্থো পেডিক ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি গেলাম। শুরু হল মায়ের চিকিৎসা কোথায় থেকে তৈল এনে গরম করে প্লাস্টারের বাইরে অংশে আলতোভাবে মালিশ করলেন।
পাতার সেক দিলেন। আরো কত উপদেশ …
যেন সবচেয়ে বড় অর্থোপেডিক!

মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার।’মা’ ডাকে প্রশান্তি পাই। মায়ের অনুরাগে পৃথিবীর সব দুঃখ ভুলে যাই। আমার ‘মা’ যেন সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ।

আফজাল হোসাইন মিয়াজী
(শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক )
০৬-১২-২০১৬ইং

Leave a Comment