একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাথায় হাত উঠেছে হাওর পাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর

শাকেল হাসান, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
করোনার প্রছন্ড ঝড়ে বিশ্ব যখন নাজেহাল তারই ভিতরে হঠাৎ করে বৈশিক উঞ্চায়নের প্রভাবে টাংগুয়ার হাওরের বুকে আঁচড়ে পড়ছে ডেউ ভেঙ্গে গেছে শতাধিক বসতবাড়ি। নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছে ২০টি পরিবার। শ্রিপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড টাংগুয়ার হাওর পারের মন্দিয়াতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সরকারী তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও কিছু পায়নি এই নিরুপায় অসহায় মানুষগুলো। তারা পেয়েছেন কিছু শুকনো খাবার। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাথায় হাত উঠেছে হাওর পারের এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর। তাদের অভিযোগ সরকারী তহবিল থেকে বিভিন্ন সাহায্য -সহযোগীতা দেওয়া হলেও তারা পাওয়ার যোগ্য তারা পাচ্ছেনা কেন? দুর্যোগের শিকার মোঃ সায়েদ মিয়া ও অন্যানরা বলেন, আমরা শুনেছি সরকারী তহবিল থেকে চাল ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে কিন্তু তা আমরা সঠিকভাবে পাইনি। পেয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সাজিনুর মিয়া (মেম্বার)এর আত্বীয়-স্বজন। তিনি নিজের ঘরে রেখে দিয়েছেন সরকরী ত্রানগুলো। আমরা ২০টি পরিবার ১মাস হয়ে গেল বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি। এর মধ্যে পেয়েছি কিছু শুকনো খাবার ও অল্প কিছু চাল তা দিয়ে কী ১মাস আমাদের এই পরিবারগুলো চলে? বর্তমানে আমরা অনেক কষ্টে দিনকাল পার করছি। নেই কোন কাজকর্ম, নেই কোন ইনকাম। আমাদের ঘড়-বাড়িগুলো টাংগুয়ার হাওরের ঢেউয়ে ভেঙে গেছে কী করে যে ঘর -বাড়ি ঠিক করব, আর দুবেলা ভাত তুলে দেব ছেলে-মেয়েদের মুখে কিছুই ভেবে পাচ্ছি না আমরা। শ্রিপুর উঃ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মন্দিয়াতা গ্রামের বর্তমান( মেম্বার) মোঃ সাজিনুর মিয়া বলেছিলেন আমাদের সরকার থেকে ঘর দেওয়া হবে, আমাদের নাম লিখিয়েও নিয়েছিলেন। কিন্তু পড়ে বলেন লিষ্টে আমাদের নাম নেই। তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ঘড় দিবেন বলে আশা দিয়ে। বিদ্যালয়ে আশ্রয়ে থাকা মানুষগুলো মোঃ সাজিনুর মিয়া(মেম্বার)কে বললেন যাদের ঘড়-বাড়ি আছে তারা ঘর পাবে, যাদের গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আছে তারা সরকারী ত্রান পাবে আমরা কেন পাব না? আমাদের কী সরকারী সাহায্য পাওয়ার অধিকার নেই? তখন মোঃ সাজিনুর মিয়া(মেম্বার) বলেন তোমরা আমাকে ভোট দাও নি তাই তোমাদের কে কিছুই দেওয়া যাবে না। আর যারা টাকা দিতে পারবে তাদেরকে একটি করে ঘড় দিতে পারি। এখন অসহায় মানুষগুলোর অভিযোগ সরকারী সাহায্য আমরা কেন পাব না? টাকা দিয়ে কেন সরকারী সাহায্য পেতে হবে আমাদের? কেন শুধু মেম্বাবের আত্বীয়-স্বজন পাবে সরকারী সাহায্য সহযোগীতা? মেম্বারের কার্জকর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মেম্বার এর সুষ্ঠ বিচার চাই আমরা। আমাদের আবেদন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এরই সাথে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। প্রতিবছর টাংগুয়ার হাওরের আফালের তান্ডবে আমাদের ঘড়-বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে। তাই আমাদের আকুল আবেদন, আগামী শুকনো মৌসুমেই আমাদের হাওর পারের গ্রামগুলুতে স্থায়ী প্রটাকশন ওয়াল দিয়ে আমাদের ধংসের কবল থেকে রক্ষা করেন।

Leave a Comment