করোনা সংকটে ব্যাপক আলোচনায় “প্রথম নাসিরনগর”

মুক্তির লড়াই রিপোর্ট: অভিনব পন্থায় অবহেলিত জনপদ নাসিরনগর উপজেলায় করোনা সংকটে অসহায়দের পাশে দাড়িয়ে সর্বত্র আলোচনায় আসা এক নাম প্রথম নাসিরনগর। ফেইসবুক পেইজ ভিত্তিক এই কর্মসূচীটির পৃষ্ঠপোষক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য, আরএকে গ্রুপের এমডি এসএকে একরামুজ্জামান।

জানা গেছে উপজেলার একটি বিশেষ সংখ্যক মানুষ নাসিরনগরের বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মহীন হয়ে বিপদগ্রস্ত অবস্হায় আছে। যারা এখনো সরকার বা অন্যকোনো কর্তৃপক্ষের সাহায্য সহযোগিতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। এই সকল সংকটাপন্ন মানুষদের সহযোগিতার জন্য তিনি নাসিরনগরের পেশাজীবি ও সমাজকর্মীদের সমন্বয় করে ‘প্রথম নাসিরনগর’ নামক একটি প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন। ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে দুটি হটলাইন নম্বার দেয়া হয়। বিপদগ্রস্তরা প্রতিদিন ওই নম্বারে নিজের তথ্য প্রদান করার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভেরিফাই করে উপযোগীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাঁচশত বিপদগ্রস্তকে এই সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তাদেরকে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে অবস্থার আলোকে আরো বেশি অর্থও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রথম নাসিরনগরের উদ্যোক্তাদের একজন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আলোকিত ঢাকা নিউজ পোর্টালের সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম মুনিরের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম নাসিরনগরের উদ্যোগে নাসিরনগরের আপামর জনসাধারণের কাঙ্ক্ষিত নেতা একরামুজ্জামান সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় নাসিরনগরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে পরামর্শক্রমে শীঘ্রই উপজেলার কোভিড-১৯ আক্রান্ত, অসুস্থ ও সংকটাপন্নদের সহযোগিতার জন্য আরো বিশেষ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান বিরোধীদলে থেকে, শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এবং উৎপাদন বন্ধ থাকা নিজের অনেক কারখানা ফ্যাক্টরীর হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা কর্মচারীর কোটি কোটি টাকা বেতন প্রদানের ঝুঁকিতে থেকেও নাসিরনগরবাসীর জন্য একরামুজ্জামান সাহেবের এই ভালবাসা সাধারণ জনগণের কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

এছাড়াও নাসিরনগর উপজেলায় তথ্য নিয়ে আরো জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এসএকে একরামুজ্জামান সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাসিরনগর উপজেলা ও ১৩ টি ইউনিয়নের বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় উপজেলার অভ্যন্তরে ১৩টি ইউনিয়নের ১১৭টি ওয়ার্ডে ৩ হাজার মানুষকে ১ হাজার ২০ টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করছেন। বিপদগ্রস্ত প্রত্যেকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে এই সহযোগিতা প্রদানে এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংকট মুহুর্তে ব্যাপক উৎসাহ ও আশার সঞ্চার হয়েছে। এবং প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে। অনেকেই আছে দূর্বিষহ জীবনযাপন করছে কিন্তু সরকারের ত্রান বা অন্যকোন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই, এ সকল ব্যক্তিবর্গকেও এ সহযোগিতার আওতায় আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতা জানান “অস্বীকার করার উপায় নেই একরামুজ্জামানের এই সহযোগিতা নাসিরনগর উপজেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় অনুদান। সর্বত্রই যখন চলছে আত্মপ্রচারের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ছোট ছোট সরকারি অনুদানের বিষয়কেও উপলক্ষ বানিয়ে ছবি তুলে যখন অনেকে আত্মপ্রচারে মগ্ন, আমরাও যখন বিব্রত ঠিক তখন একরামুজ্জামান সাহেবের এমন ছবি, সেলফি ও আত্মপ্রচার বিহীন অভিনব অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া উপজেলার সর্বমহলকে নাড়া দিয়েছে।”

ইতিমধ্যেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতাই অনুদান ও সাহায্য প্রদানের এই প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এরকম উদ্যোগ গ্রহন করছেন।

Leave a Comment