কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে নেটওয়ার্ক না থাকায় গ্রাহকের ভোগান্তি

এম এ হান্নান,সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ-
‘হ্যালো! হ্যালো! শুনা যাচ্ছেনা!’ বাক্যটি শুনতে যদিও সুন্দর কিন্তু এর ভিতরে রয়েছে কষ্টের কান্না। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি না পারছেন কিছু বলতে, না পারছেন সইতে। এই বাক্যটি সিলেট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী মানুষের কাছে খুব পরিচিত। কারণ যে কোনো অপারেটরের সিম হোক না কেনো, উত্তর রণিখাইয়ে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।

উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী জানান, ফোনে কথা বলতে হলে মোবাইল হাতে নিয়ে দিক-বেদিক ছোটাছুটি করতে হয়। শুধু তাই নয় খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে, কোন উচু জায়গায়, আবার কখনো ঘরের বাইরে মোবাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। কথগুলো শুনে অবাক হলেও বাস্তবতা এমনই।

বিশ্বায়নের এই যুগে মানুষ যখন ইন্টারনেটে সকল কাজকর্ম করছে, সেখানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের বনপুর, বতুমারা, লামাগ্রাম, বেকিমুরার পার, কাকুরাইল, মনুরপার ও ফেদারগাঁও গ্রামের মানুষ নেটওয়ার্ক দূর্বলতার কারণে মোবাইল ফোনে ঠিকমতো কথাই বলতে পারছেন না। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ইউনিয়নের প্রায় ১৫ সহস্রাধিক মানুষের প্রাত্যহিক কাজকর্মে ঘটছে ব্যাঘাত।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেয়া হলেও ফোনের ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল থাকায় এই সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না এ অঞ্চলের কোমলমতী শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়রা ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনসহ ব্যবহার করলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সরকারের দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা থেকে রয়েছেন বঞ্চিত। আর এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় এলাকার বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া যাচ্ছেনা। ফলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে পারছেননা অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এই এলাকায় ৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৫টি মাদ্রাসা ও ২টি বাজার রয়েছে।

রণিখাই হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেন। অদ্যবধি নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে আমরা কম্পিউটার ল্যাব চালু করতে পারিনি। বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। কিন্তু এই এলাকায় এখনো ডিজিটালের ছোয়া লাগেনি। এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিষয় কিছু শিখতে পারছেনা। নেটওয়ার্ক সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে পড়বে।

বনপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মুকিত বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফোনে কথা বলতে হলে মোবাইল হাতে নিয়ে দিক-বেদিক ছোটাছুটি করতে হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করাতো দুরের কথা এখানে ২জি পাওয়া মুশকিল। আমি এর দ্রুত সমাধান চাই।

উপজেলা আইসিটি অফিসার নাঈম হাসান বলেন, জনগনের দোড়গোড়ায় সহজে ইন্টারনেটের সেবা পৌছে দেয়ার জন্য অন্যান্য উপজেলার ন্যায় সরকার এ উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নেই ফাইবার এট হোম স্থাপন করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রাইভেট কোম্পানী বিটিআরসি আজও উদাসিন রয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর রণিখাই ইউনিয়নটি এই নেটওয়ার্ক সেবা থেকে বঞ্চিত। ফলে এখানে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অত্যান্ত দুর্বল থাকায় মানুষ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারতেছেনা। আমি তাদের সাথে কথা বলব যাতে দ্রুত এর সমাধান হয়।

Leave a Comment