চৌদ্দগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে জামমুড়া গ্রামের আলী নোয়াজের ছেলে ওয়াসিম আক্রামের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ী জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম জোর কানন ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। তার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

এদিকে ফাহিমা আক্তারের ঝুলে থাকা লাশ দেখে সন্দেহ হয় তার বাবার বাড়ির আত্মীয়দের। ঘটনা বেগতিক দেখে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতের বাবা।

মামলা না নেওয়া এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে। নিহত ফাহিমার বাবার বাড়ির আত্মীয়রা মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় বক্তারা নিহত ফাহিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী ওয়াসিম, দাবি করে, ঘাতক ওয়াসিমের শাস্তির জোর দাবি জানান। সেই সাথে বক্তারা বলেন, কেউ যদি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করবে, তাহলে তার মাথায় আঘাত এবং মারাত্মক জখমের চিহ্ন আসলো কিভাবে? এসব চিহ্ন আর ফাহিমার স্বামীর বাড়ির লোকজনের আচরণে এটাই সন্দেহাতীত সত্য যে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু এর বিচার চাই।

একইসাথে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা উন্মোচন হোক সেটাই চাই। থানায় মামলা না নেওয়ার কারণে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশ প্রশাসন দেশের সকল নিপিড়ীত মানুষের জন্য কাজ করে, কিন্তু এরকম একটা পরিকল্পিত ভাবে হত্যার পরও কেন মামলা নেওয়া হয়নি, তার জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেন উপস্থিত সবাই।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মজিদ জানান, ওই গৃহবধূর হত্যা বা আত্মহত্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তদন্ত ও পোস্টমর্টেমের পর বলা যাবে কীভাবে এবং কেন তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই ফাহিমার স্বামী পক্ষের লোকজন চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে । তদন্তের স্বার্থে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে সত্যতা জানা যাবে।

Leave a Comment