জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে এ দেশের স্বাধীনতা আসতো না

রাজন আহমেদ মল্লিক সুমন :
আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। দীর্ঘদিন যাবৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে আওয়ামীরীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে হলো। তাই এই লেখাটি লিখলাম।
জাতির জনক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশে জন্ম গ্রহন না করলে আমরা কোনদিন এেেদরশর স্বাধীনতা পেতাম না। তাই আমার লেখার শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। পাশাপাশি ১৯৭১সনে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত সকল শহীদদের প্রতি ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি। স্বাধীনতা মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ। এর জন্য পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জাতিকে কোনো না কোন সময় কোন ভাবে সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে, অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
পৃথিবীতে এমন কোন জাতি নেই যে জাতি পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কারন পরাধীন মানুষ পশুর চেয়েও অধম। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এরজন্য আমাদের অনেক রক্ত দিতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে। সুদীর্ঘ ৯মাসের মুক্তিযুদ্ধেও মদ্য দিয়ে ৩০লাখ তাজা প্রাণের আর ২লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌমত্বের গৌরব অর্জন করেছে। দীর্ঘ পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন কওে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধেও মাধ্যমে ১৯৭১ সালে একসাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধেও পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে পাকিস্থান স্বাধীনতা লাভ করে। কেবল ধর্মীয় সাদৃশ্যের অজুহাতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তভ’ক্ত হয়ে নতুন কওে পরাদীনতার কবলে পড়ে। ব্রিটিশদেও পর পাকিস্তানি বর্বও শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদেও দমিয়ে রাখার জন্য প্রথম আঘাত হানে বাঙালির মাতৃভাষার উপর। সমস্থ পানিকস্তানে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পরও বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু পশ্চিমা শাসকদেও এ একপেশে সিদ্ধান্ত আর বিমাতা সুলভ আচরণকে বাঙালিরা মেনে নিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে তারা রাজপথে নেমে আস্ েশুরু হয় ভাষা আন্দোলন। ঢাকার রাজপথ প্রকম্বিত হয়ে ক্রমে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২সালে অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা প্রথমে বাংলা ভাষার অধিকার আদায় করি। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মিছিল, মিটিং শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ কওে একমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু ছাত্র জনতা তাও মেনে নেয়নি।১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ধারা ভঙ্গ করে বাঙালি ছাত্র জনতা মিছিল নিয়ে রাজপথে আসে। মছিলের উপর পুলিশের গুলি বর্ষন করলে নিহত হয় রফিক, সালাম, বরকতসহ নাম না জানা আরো অনেকে। তাদেও আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। বাঙলা ভাষা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। পরবর্তীকালে এপথ ধরেই বাঙালিরা তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৬৯সালে আবারও এক মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। আন্দোলন ক্রমেই বৃহৎ গণঅভ্যুথানে রুপ নেই। প্রবল আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন পাকিস্তানের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান। আইয়ূব খানের পতনের পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতাসীন হন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অল্পকালের মধ্যে তিনি সাধারন নির্বাচন ঘোষনা করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বাঙালিরা বিজয়ী হলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকেন। ফলে ১৯৭১সনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তার বিশ্ববিখ্যাত বক্তৃতায় ঘাষনা করলেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই ভাষন থেকে বাঙালি জাতি শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ কওে পাকিস্তানিদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। আজ সেই মহান স্বাধীনতা দিবস। আমরা এদেশের স্বাধীনতা অর্জন কওে একটি নির্দিষ্ট ভ’খন্ড পেয়েছি। বিশ্বের দরবাওে আমাদেও আতœমর্যাদা বেড়েছে। বাঙালি জাতি বীরের জাতি, তা স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি। আমরা দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছি তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের আমাদেও একসাথে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবায়িত কওে সাধারন মানুষের মুখে হাসি ফুটলেই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।
গম্মানিত পাঠকগণ আমি পরবর্তী সময়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আরো কিছু লিখতে চাই। আমার কোন ভুলত্রুটি হলে দয়া কওে জানাবেন বলে আশা করছি। এতক্ষণ আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমার এলেখাটি পড়েছেন সেজন্য আমার অন্তর থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

লেখক-
রাজন আহমেদ মল্লিক সুমন
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা
কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ

Leave a Comment