তিতাসে পশুর হাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষঃ ইউপি চেয়ারম্যান আহত

তিতাস প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের সৎমেহের বিবির বাজারে (ভুইয়ার বাজার) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জগতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, জগতপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক টিপু ও চায়ের দোকানদার মনু মিয়া । ২৬ জুলাই রবিবার দুপুর ১ টায় সৎমেহের বিবির বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত অবস্থায় আহত চেয়ারম্যানকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত মোজাম্মেল হক টিপুও একই স্থানে চিকিৎসা নেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় লোকজন ও নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ৩০ জনের একটি কমিটির মাধ্যমে বাজারটি পরিচালনা করা হবে এই মর্মে জগতপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক টিপুর নামে বাজারটি ইজারা নেওয়া হয়।

জগতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন গত বছর কমিটিতে না থাকলেও এবার তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। এ বছর তিনি সিডিউল কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিনতে পারেন নি। ২৬ জুলাই দুপুরে দেলোয়ার হোসেন বাজারে গিয়ে ক্যাশের দায়িত্ব তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকবুল মাহমুুদ প্রধানকে তার প্রতিনিধি হিসেবে বসাতে চাইলে বাধ সাধেন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। তখন উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। হট্টগোল দেখে তিতাস উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ প্রধান ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। কথাবার্তা চলাকালে এক পর্যায়ে বিষয়টি ভিডিও করতে থাকেন আক্তার হোসেন প্রধান, বিষয়টি লক্ষ করে চেয়ারম্যান গ্রুপের একজন ভিডিও করতে নিষেধ করে এবং আক্তার প্রধানকে আঘাত করে। তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমিত হলেও মনু মিয়ার চায়ের দোকানে চেয়ারম্যানের উপর অর্তকিত হামলা চালায় উত্তেজিত একদল লোক। কাঠের রোলার দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানকে।
চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন মোজাম্মেল হক টিটু এবং চায়ের দোকানদার মনু মিয়া।

এই বিষয়ে আহত চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, শেখ ফরিদ প্রধান, মোকবুল মাহমুদ প্রধান, আক্তার হোসেন প্রধান ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা করে। হামলার সময় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোকের হাতে কাঠের রোলার ছিল। এই সময়ে সকলে কোথায় পেল এসব কাঠের রোলার? নিশ্চয়ই তাদের পরিকল্পনায় হামলার বিষয়টি ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা করতে চেয়ছিল।

অপরদিকে শেখ ফরিদ প্রধান বলেন, আমি এসবের কিছুই জানি না। চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান সাহেব এসেই যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। তখন বাজারের লোকজন ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি শুরু করে । আমি চেয়ারম্যান সাহেবক আমার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে আসি এবং বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করি। হঠাৎ চেয়ারম্যানের লোকজন আমার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা আক্তার হোসেন প্রধানের উপর হামলা চালায়। আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে সম্মান দিয়ে বিষয়টি সুরাহা করে দেই। কিছুক্ষণ পরে শুনি চেয়ারম্যানের উপরে হামলা হয়েছে। কোথায় হামলা হয়েছে আমি বিষয়টি জানিও না। যুবলীগ নেতা দেলোয়ার ও চেয়ারম্যানের সাথে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই প্রেক্ষিত আজকে দেয়োয়ারকে গালাগালি করে বাজারটি পন্ড করতে চেয়েছিল। তবে এই হামলায় আমি বা আমার ভাইদের কেউ জড়িত নই। উত্তেজিত জনতা তাদের উপর হামলা করেছে বাজারটি কেন পন্ড করল? সে জন্য।
এ বিষয়ে তিতাস থানার এসআই (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে যান আহতদের দেখতে। তিনি সকলের মাঝে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সৎমেহের বিবির বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী আজকে বাজার বসার কোন সিডিউল ছিল না। উপজেলার কোন অনুমতিও ছিল না। সোমবার থেকে সকল বাজারের অনুমতিপত্র প্রদান করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান, তিতাস উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসীন ভূইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরহাদ আহমেদ ফকির, বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুর নবী ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ প্রমূখ।

Leave a Comment