দেবিদ্ধারে খাদ্যবান্ধব প্রকল্পের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুমিল্লার দেবিদ্ধারে খাদ্যবান্ধব প্রকল্পের রেশম কার্ড হাতিয়ে নিয়ে এবং সুকৌশলে গ্রামের নাম পরিবর্তন করে প্রকল্পের চাউল ডিলার এবং মেম্বার মিলে আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের লিস্টে অনেকের নাম থাকলেও তা তারা জানেনই না। প্রতিটা সুবিধাভোগীকে কার্ড প্রেরন করার কথা থাকলেও ওই ইউনিয়নে অনেক সুবিধাভোগীকে কার্ড দেয়া হয়নি। ১০ টাকা কেজির চাউল দেয়া হয় স্লিপের মাধ্যমে। এমন অভিযোগ করেন সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা।

এঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১১নং রাজামেহার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে।

সরেজিনে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় এলাকাবাসী এবং চাটুলি গ্রামের কামরুল হাসান জানান, ১নং ওয়ার্ডের কবির মেম্বার সন্ত্রাসী চাদাবাজি, বি.জি.পি, বি.জি.ডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ খাদ্যবান্ধব প্রকল্পের রেশম কার্ডের দুর্নীতিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এই মেম্বারের বিরোদ্ধে গত ২২ এপ্রিল আমি নিজে বাদী হয়ে ই-মেইল এর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা প্রশাষক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। কবির মেম্বারের কারনে এলাকার হত-দড়িদ্র এবং খেটে খাওয়া মানুষ সরকারের ত্রান সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই সরকার যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই মেম্বারের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করেন।

এব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চাটুলী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কুলসুম আক্তার মুঠো ফোনে জানান, আমি কখনো ১০ টাকা কেজির চাউল পাইনাই। আমার নামে যে কার্ড হয়েছে আমি জানিনা। অথচ তার নাম লিস্টের ১০ নাম্বার সিরিয়ালে।
একই গ্রামের পারভীন আক্তারের স্বামী সেলিম মিয়া জানান, আমার স্ত্রী’র নামে কার্ড হয়েছে।গত বছর দুইবার চাউল পেয়েছি। আর কোন চাউল পাইনাই। অথচ এবারের লিস্টে তার নাম ৪৭ নাম্বার সিরিয়ালে।
এ ছাড়াও একই গ্রামের মান্নানের স্ত্রী পারভীন বেগম, মৃত কালা গাজীর ছেলে সাহাদাত হোসেন, মৃত বাদশা মিয়ার ছেল মো. ছালা উদ্দিন এবং আবুল হাসেম সরকারের ছেলে সফিকুল ইসলামেরও একই অভিযোগ।

এব্যাপারে ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কামাল উদ্দিন মেম্বার, ৯নং ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম কালু মেম্বার, ৫নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার মুঠো ফোনে জানান, যখন চাউল আসে তখন ডিলার তাজুল ইসলাম আমাদেরকে স্লিপ দেয়। সেই স্লিপ আমরা লিষ্টে যাদের নাম আছে তাদেরকে দিয়ে দেই তখন তারা গিয়ে ডিলার থেকে চাউল নিয়ে আসে। খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের আতায় যাদের নাম আছে তাদের হাতে কোন কার্ড দেয়া হয় না।
রাজামেহার ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব প্রকল্পের ডিলার, তাজুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান, আমার আগে এই ইউনিয়নের ডিলার ছিল জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান এর ভাই রফিকুল ইসলাম। আমি যখন ডিলারশিপ নেই তখন প্রকল্পের আওতায় সুবিধা ভোগীদের কোন কার্ড রফিকুল ইসলাম আমাকে বুঝিয়ে দেয় নাই। উপজেলা থকে আমাকে লিস্ট দেয় সেই লিস্ট অনুযায়ী আমি চাউল দিয়ে দেই। কার্ডের ব্যাপারে আমি উপজেলায় জানিয়েছি। ওরা বলেছে কার্ড ব্যাবস্থা করে দিবে।

ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের করিব হোসেন মেম্বারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চাউল দেয় ডিলার। এটা আমার ফাংসান না। এ বলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে বহুবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননে।

এব্যাপারে চেয়ারম্যন এর ভাই রফিকুল ইসলাম ডিলারের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজী হননি। তিনি শুধু বলেন আমি খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের ডিলার না। এবলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
ইউপি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান,

এব্যাপারে আমার এবং চেয়ারম্যান এর কিছু করার নাই। এটা সম্পুন্ন ডিলারের ব্যাপার।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দেবিদ্ধার উপজেলা টেগ অফিসার কাউছার আহম্মেদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এব্যাপারে কিছু আমি জানিনা। তবে প্রকল্পের আওাতায় সুবিধা ভোগী যারযার কার্ড তার তার হাতে থাকবে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানকে একাধিকবার মুঠো ফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নাই। তিনি ফোন রিসিব করেননি।

Leave a Comment