দেবিদ্বারে আশংকাজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলছে । ইতোমধ্যে কুমিল্লার জেলার ডেন্জার জোন বা রেড জোন হিসাবে ধরা হচ্ছে দেবিদ্বার কে । জেলার উপজেলা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে দেবিদ্বার উপজেলায়। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন । দিন দিন রেড়ে চলছে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা । করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের । গত সপ্তাহে দুই দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন এ সপ্তাহের রবিবারে করোনায় মৃত ডা.সুকুমার এর পরিবারের ৩জন, ভাড়াটিয়া ১ জন ও কর্মচারী ১ জন সহ সর্বমোট ৫ জন আক্রান্ত হয়েছে । উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের আইইডিসিয়ার থেকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঠানো ৯ জনের রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে নারায়নগঞ্জ ফেরত সুতা ব্যবসায়ী জীবন কৃষ্ণ নামে এক ব্যক্তির পজেটিভ আসে এবং বাকি ৮জনের নেগেটিভ পাওয়া যায়। এর আগে ৮ এপ্রিল জীবন কৃষ্ণ দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নমুনা দিয়ে যান। পরে ১০ এপ্রিল ভোরে তিনি নারানগঞ্জের নিজের বাসায় মারা যান। মারা যাওয়ার একদিন পর অর্থ্যাৎ ১১ এপ্রিল তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। গত ১৩ এপ্রিল আইইডিসিয়ার থেকে প্রাপ্ত ৪ জনের নমুনার সবকটিই নেগেটিভ আসে। এর পরদিন ১৫ এপ্রিলও চারজনের নমুনার মধ্যেও সবার নেগেটিভ পাওয়া যায়। ২০ এপ্রিল চারজনের নমুনার মধ্যে বাগুরের ইউপি সদস্য শাহজালাল মেম্বারের পজেটিভ ও বাকি তিনজনের নেগেটিভ রিপোর্ট আসে । পরে ২১ এপ্রিল শাহজালাল মেম্বার মারা যান। ২১ এপ্রিল আইইডিসিআর থেকে ৪ জনের নমুনা আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর মধ্যে মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের আ. কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তির রিপোর্ট পজেটিভ আসে, তিনি বাগুরে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন। অন্য তিনজনের নেগেটিভ আসে। ২৫ এপ্রিল ১০ জনের রিপোর্ট আসে আইইডিসিয়ার থেকে এর মধ্যে ৬ জনের পজেটিভ ও ৪জনের নেগেটিভ পাওয়া যায়। পজেটিভ হওয়া ৬জন হলো, ১। উত্তর গুনাইঘরের মো. নুরুল ইসলাম,২। বাগুর গ্রামের সাথী আক্তার (সাথী আক্তার বর্তমানে দেবিদ্বার উপজেলা আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন) সাথী আক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ইউপি সদস্য শাহ জালাল মেম্বারের পুত্রবুধু। ৩। বাগুর গ্রামের সেলিনা আক্তার ও তার মেয়ে ৪। সামিয়া জাহান। ৫। বরকামতা ইউপির নবিয়াবাদ গ্রামের মো. সারোয়ার ও তার স্ত্রী লায়লা আক্তার। তারা সকলে বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২৭ এপ্রিল আইইডিসিয়ার ২১ জনের নমুনার রিপোর্ট আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এর মধ্যে ৬ জনের পজেটিভ এবং ১৫ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। পজেটিভ পাওয়া ৬জন হলো ১। নবীয়াবাদের মো. মনিরুল ইসলাম ২। দেবিদ্বার সদরের হোমিও চিকিৎসক ডা. সুকুমার চন্দ্র দে। ৩। বাগুরের ইউপি সদস্য মো. শাহ জালাল মেম্বারের স্ত্রী রেহানা বেগম, ৪। নবীয়াবাদ গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম (২)। ৫। একই এলাকার গৌরাঙ্গ দাস, ৬। বাগুর গ্রামের আবুল কালাম।
ইতিমধ্যে দেবিদ্বারকে হটস্পট ঘোষনা দিয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহমেদ কবির জানান, গত শনিবার সারাদিন বাগুর এবং নবীয়াবাদ এলাকায় নিজে সাথে থেকে সন্দেহভাজনের নমুনা সংগ্রহ করেছি,আজ রবিবার সকাল থেকেই উন্মুক্তভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে লজ্জা বা সংকোচ এড়িয়ে রোগ লুকিয়ে না রাখার আহ্বান জানিয়ে সবাই বিনা কারনে বাহিরে না এসে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকায় জোর দিয়েছেন।

Leave a Comment