পলিটেকনিকে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রতিবাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যৌথ বিবৃতিতে সারাদেশে সরকারি ৪৯ টি এবং বেসরকারি প্রায় ৫১১টি পলিটেকনিকে ভর্তির বিষয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভর্তি বিষয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরসনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “পলিটেকনিকে অধিক ছাত্র ভর্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যেকোন বয়স এবং জিপিএর মান কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন তা আপাত অর্থে ভালো শোনালেও বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন। কারণ ১৯৮৩ সাল থেকে সারাদেশে ৪৯ টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ৫১১টি বেসরকারি পলিটেকনিক পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি পলিটেকনিকে প্রতিবছর শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ৪৯,৬০০ জন এবং বেসরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি হয় ১,১৭,০০০ জন। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে পলিটেকনিকে প্রতি বছর প্রায় দুই লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মত পর্যাপ্ত আয়োজন আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই, সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে শিক্ষক আছে ৮৫০ জন এবং এই শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাবে উ”চ শিক্ষা গস্খহণ করার একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান ডুয়েট, সেখানে প্রতি বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় ৬৩০ জন। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের উ”চ শিক্ষার সংকট নিরসনে প্রতি বিভাগে কমপক্ষে একটি উ”চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ¯’াপনসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। সরকার আমাদের দাবিকে উপেক্ষা করে, কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ কারিগর তৈরি ও কর্মসং¯’ানের জন্য যে সকল আয়োজন নিশ্চিত করা প্রয়োজন সে দিকে না গিয়ে, শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করার নামে একদল সার্টিফিকেটধারি বেকার তৈরি করতে যা”েছ”।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চলমান সংকটের জন্য কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, সরকারের অবহেলা ও শিক্ষা সংকোচনের নীতিই দায়ী। তাই পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের উ”চ শিক্ষার সংকট নিরসনে প্রতি বিভাগে কমপক্ষে একটি উ”চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ¯’াপন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ক্লাসরুম নির্মাণ, আবাসিক হল নির্মাণ, গবেষণাগারে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই পলিটেকনিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব এবং বর্তমানে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব”।

Leave a Comment