প্রধানমন্ত্রীর কাছে অসহায় এক শিল্পীর খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাঁচান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আজ সারা পৃথিবীতে নেমে এসেছে এক ভয়ংকর দুঃসময়ের কালো মেঘ যা থেকে আমাদের এই ভালোবাসার ছোট্ট ভূখণ্ডেও তার আঁচ লেগেছে।
পৃথিবী আজ বিপন্ন, বিপন্ন পৃথিবীর সকল মানুষ।
করোনা ভাইরাসের করাল থাবা’য় তছনছ হয়ে গেছে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, মানুষের জীবনযাপনের ধরন, যে যেভাবে পারছে সামাল দিতে চেষ্টা করছে
কিন্তু না পেরে অসহায়ের মতো নিজেদের
সমর্পণ করছে আকাশের দিকে হাত উঁচিয়ে।
হ্যাঁ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এছাড়া এখন কারোরই করার কিছু নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা শিল্পীরা শুধু নয় কলাবিদ্যা’র প্রতিটি শাখার শিল্পী বা এই শিল্পের সাথে জড়িত সকল পেশাজীবি এক চরম অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। আমাদের বাঁচান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি খুব ভালো করেই জানেন এই কলাবিদ্যার সাথে জড়িত মানুষজন কেমন থাকেন। এ বিদ্যায় যারা আসে তারা হয় সংসার সম্পর্কে উদাসীন, এঁদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, পেটে থাকে ক্ষুধার জ্বালা কিন্তু কন্ঠে থাকে সুর আর শিল্প সৃষ্টির কল্পনা। ভাবনায় আসেনা সংসারের ভবিষ্যৎ আর পরিবারের সদস্যদের মুখ কারণ সৃষ্টির আনন্দে বিভোর মনকে রাখে একচিত্তে নিমগ্ন।

মা 🌹
আজ আমাদের রাস্তায় হাত পেতে যে ভিক্ষা করবো তার-ও উপায় নেই প্রচার মাধ্যম গুলোর অনুষ্ঠান বন্ধ, সারাদেশে বিভিন্ন দিবস আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী আর তার সাথে জড়িত সব শিল্পী আজ বেকার।
আমরা এখন কি করবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে পারছিনা এরপর আসছে বাড়ি ভাড়ার চিন্তা।

মা
এই অবস্থায় একমাত্র আপনিই পারেন এই শিল্পের সাথে জড়িত মানুষ গুলোর পরিবারকে বাঁচাতে।
আপনি গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের প্রণোদনা সহায়তা দিচ্ছেন কারণ আমরা জানি আপনার মন সবসময় কাঁদে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন এই আপদকালীন সময়ে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশের শিল্পীদের জন্য কিছু প্রণোদনা সহায়তা দিয়ে আমাদের পরিবারের মানুষগুলোর দু’বেলা দুমুঠো অন্নের ব্যবস্থা করুন।

একটি বিশেষ অনুরোধ আপনার কাছে আমরা যারা শহরে বসবাস করি আপনি অনুরোধ করেন যাতে আগামী ২/৩ মাস সম্মানিত বাড়ীওয়ালা গণ যেন আমাদের বাড়ী ভাড়া মওকুফ করে দেন, নইলে আমাদের যে অসহায় অবস্থার সৃষ্টি হবে তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ খোলা থাকবে “আত্মহত্যা”।

শিল্পী সমাজের পক্ষে

এম.আর.মুন্না সাস্কৃতিক কর্মী ও কিবোর্ডইস্ট। জামালপুর জেলা সদর।

Leave a Comment