বুড়িচংয়ে একটি সমন্বিত খামার করোনা ও বন্যার আঘাতে থুবড়ে পরেছে

আব্দুল্লাহ আল মামুন ভূঁঞা, বুড়িচংঃ লিটল এগ্রো এন্ড হ্যাচারি,একটি সমন্বিত খামার।হাঁস,হাঁসের ডিম,গরু মোটাতাজা করন,নানা প্রজাতির মাছ,পেপে,বেগুন,লেবু,পাউলনিয়া কাঠের গাছ নিয়ে ২০১৮ সালে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর গ্রামে খামারটি স্থাপিত হয়।উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়েই তাঁদের কার্যক্রম সাজানো হয়,যাতে এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য স্থানেও সরবরাহ করতে পারে।এলাকার লোকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।করোনা পরিস্থিতি সবকিছু এলোমেলো করে দেয়।পরিবহণ সমস্যায় হাঁসের ডিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যায় এতে প্রয়ায় ৪০ হাজার ডিম নষ্ট হয়।যার বাজার মুল্য ৩লক্ষ ২০ হাজার টাকা।অকাল ও অতিবৃষ্টিতে খামারটির মাছের পুকুরের কয়েকটি পাড় ভেঙ্গে ২ বছেরের পূরানো সকল প্রকারের বড় বড় মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে যায়।যার ক্ষতির পরিমাণ প্রাই ২৫ লক্ষ টাকা।
সরজমিনে দেখা যায়,আধুনিক প্রযুক্তিতে করা খামারটির ভাসমান ঘর ও পাড়ের ঘরের চারদিকে শুধু পানি আর পানি।হাঁসের খামারটির ভেতরে হাটু পানি ঢুকে আছে।৪২০০ হাঁসের প্রায় সবই নামমাত্র মুল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়।সাত জন শ্রমিকের বেতন,হাঁসের উন্নত মানের খাবার,চিকিৎসা,ডাক্তার,খামারের বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা,হাঁসের জন্য শেড,ডিমের মুল্য কমে যাওয়া সব মিলিয়ে এই লোকসান হয়।এতে প্রকল্পটি এখন মুলধনের অভাবে মুখ থুবড়ে পরেছে।
খামারের প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারি ও পরিচালক মনির সরকার বলেন,এটি গ্রামের মানুষের কথা ভেবে করা হয়েছিল।কিন্তু প্রজেক্টটি শুরু হবার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার হানা দিলে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হই। আমরা এই প্রকল্পের জন্য আমাদের সব মূলধন হারাই।তিনি আরো বলেন,আপনি কতো বার চেষ্টা করবেন?১.ঘূর্ণি ঝড় বুলবুল খামারের সব শেষ করে দিয়েছিল।ভাসমান ঘরটি পুকুর থেকে উড়িয়ে নিয়ে বাইরের জমিতে ফেলে দিয়েছিল এতে অনেক ক্ষতি হয়।ঘরটি আবার তৈরি করতে হয়।আমরা আবার শুরু করি।২.হঠাৎ বৃষ্টিতে পুকুরের ছয়ফিট পাড় ভেঙ্গে যায় আমার পুনরায় পাড় বাধি।৩.করোনায় দিমের দাম কমে যায় কিন্তু হাঁসের খাবারের দাম বেড়ে যায়।৪.ডিম না বিক্রি করতে পেরে হাজার হাজার ডিম নষ্ট হয়।৫.দীর্ঘ্যবন্যায় খামারের সবকিছু ডুবে আছে।এখন খামারে হাঁস নেই,সব মাছ ভেসে গেছে।তারপরও আমাদের কর্মীদের আমরা বিদায় করিনি।এই প্রজেক্ট থেকে লাভ তো দূরে থাক প্রায় ৮০ লক্ষ্ টাকা লোকসান।সরকারি প্রনোদনা ও ঋণ না পেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।তিনি আরো বলেন,নিউজ মিডিয়ার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।সরকারি প্রনোদনা ও ঋন পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

Leave a Comment