বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা

সায়মন সরওয়ার কায়েম, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে এদেশ যে কোন একদিন ধ্বংস হতে পারে। রোহিঙ্গারা দিন দিন সন্ত্রাসীদের লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা দিনের পর দিন হত্যা করে যাচ্ছে। এ রোহিঙ্গারা বেপোরুয়ারা হয়ে গেছে।
আইন শৃংখলা কিছুই মানে না। রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সশস্ত্র গ্রুপ বাংলাদেশের অনেক নিরহ মানুষকে খুন,অপহরণ,ঘুম সহ বিভিন্ন ভাবে নিযার্তন করে চলছে।
জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে মিনাবাজার শামসু হ্যাডম্যানের ঘোনা থেকে জানা ৬ জন কৃষক ধানক্ষেতে কাজ করা অবস্থায় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে। অপহৃতরা হলেন, কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই পুত্র জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের পুত্র আকতার উল্লাহ (২৪) ও মরহুম মোহাম্মদ কাশেমের পুত্র ইদ্রিস।

টেকনাফে অপহৃত তিন কৃষক থেকে একজনকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। বাকিদের জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় তাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিলো রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। নিহত কৃষক মিনাবাজার মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতার উল্লাহ (২৪)।

১ মে ভোর রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প (২২ নম্বর) উনছিপ্রাং পুটিবনিয়ার পশ্চিমে ছনখোলা থেকে ওই কৃষকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে একদল পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। মৃত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ।

সেখান থেকে চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে হাসেমসহ তার দুই পুত্রকে ছেড়ে দিলেও বাকি তিন জনদের ছেড়ে দেয়নি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহৃত শাহেদের মোবাইল থেকে তার পরিবারের নিকট ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেন।
এরই প্রেক্ষিতে ভোর রাতে ওই কৃষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে পরিবার পরিজনকে খবর দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রসীরা। মৃতদেহের শরীর থেকে একটি চিরকুট ও ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তূজ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। বাকি দুই কৃষককে জীবিত পেতে হলে বিশাল অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুখ্যাত হাকিম ডাকাত তাদের অপহরণ করেছে।
অপহৃত শাহেদের মুঠোফোনের বরাত দিয়ে শামসুদ্দিন হ্যাডম্যান বলেন, ‘শাহেদ ভোর রাতে মুঠোফোনে তার মার কাছে জানান, আক্তাল্লাহকে মেরে ফেলেছে হাকিম ডাকাত। ২০ লাখ টাকা না দিলে তাদেরও দু’য়েকদিনের মধ্যে মেরে ফেলা হবে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিম পাশে ছনখোলা হতে আক্তাল্লাহ মৃত দেহ উদ্ধার করতে স্থানীয় মেম্বার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এর আগের দিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় ছয় ব্যক্তিকে অপহরণ করে। পরে কৌশলে তিনজন ফিরে এলেও বাকিদের মুক্তিপণ ছাড়া ছেড়ে দেয়নি। তাদের মধ্য থেকে ভোরে (১ এপ্রিল) একজনকে হত্যা করা হয়।
এ দিকে অপহরণের পর থেকে অভিযান অব্যাহত রেখেছে হোয়াইক্যং পুলিশের একটি টীম।
ইনচার্জ এসআই মশিউর জানিয়েছেন, গহীন পাহাড়ে পুলিশের ছয়টি টীম করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের (রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের) আস্তানা হতে নানা সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছিল।
জানা যায়, এর আগেও কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম ও তার সন্ত্রাসীদের ধরতে হেলিকপ্টার অভিযান সহ নানা অভিযান পরিচালনা করেছিল আইনশৃঙখলা বাহিনী। সর্বশেষ র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৭ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিলেন।

কৃষককে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন: কৃষককে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত দলের অত্যাচার ও নিযার্তন আর কত? স্থানীয় সাধারণ নিরহ ও অসহায় কৃষকদের রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত দল কতৃর্ক ধরে নিয়ে হত্যা ও আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করা আর কত? রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সশস্ত্র গ্রুপ বাংলাদেশের অনেক নিরহ মানুষকে খুন,অপহরণ,ঘুম সহ বিভিন্ন ভাবে নিযার্তন করে চলছে। আজও রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত দলের হাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন মিনাবাজারের বাসিন্দা মৌলভী আবুল কাসেমের পুত্র আক্তাল্লাহ (২৪)নামে এক যুবক’কে মুক্তিপণের দাবি কৃত টাকা না দেওয়ায় নিমর্ম ভাবে খুন হতে হলো। আজ শুক্রবার দুপুরে মিনাবাজার এলাকায় মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। দ্রুত ঐসব সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সদস্যদের আটক করা হোক এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত দলের হাতে আটক থাকা শাহেদ(২৫)ইদ্রিস (৩০)নামে দু’জনকে উদ্ধার করা হোক। আরো দুজন এখনো রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাত দলের হাতে আটক রয়েছে তারা হলেন-শাহেদ(২৫)ইদ্রিস (৩০)।
সুত্রমতে জানা যায়, কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম এই অপহরণ ও হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত।
আমরা আর চাইনা এই রকম নিরহ অসহায় মানুষের উপর নিযার্তন ও নির্মম হত্যাকান্ড।এই মানববন্ধনে যোগ দেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বক্তব্যে বলেন,আমি পাহাড়ে যাবো। আপনারা আমার সাথে থাকবেন। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ৬ জন হলে আমরা ৬ হাজার আছি। আমরা দেখি তারা কয়জন মারতে পারে। তিনি আরো বলেন, ওরা মারতে ছাইলে আমরা ধরতে ছাইবো। এ ঘঠনা নিষ্পত্তি না হওয়া পযর্ন্ত কোন অবস্থাতে ছাঁড় নহে। আমার উপর ভরসা রাখুন শীগ্রই এ বিচার হবে। আমাকে সময় দিন,আমার কাজ আমাকে করতে দিন। অপহরণ ও হত্যা কান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের কোন অবস্থাতে ছাঁড় দেওয়া হবে না।

Leave a Comment