বড় বড় প্রকল্প হস্তগত করার পর চীন বাংলাদেশ এ এখন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বাংলাদেশ প্রায়ইশ দাবি করে যে বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে তারা সমদূরত্ব মেনে চলে। কিন্তু, সম্প্রতি চীন কিছু অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এর জনমানসে গভীর ভাবে প্রবেশ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভারতকেও পিছিয়ে দিয়েছে।

২০১৮ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ হস্তান্তর এর দরপত্র দেওয়ার সময় ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ চীনের কনসোর্টিয়াম শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ এর তুলনায় অনেক কম দরপত্র দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভারত কে সমর্থন করলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অংশ টি চীন কেই দেওয়া হয়। চীন ২২ টাকা শেয়ারের দাম ধার্য করেছিল যেখানে ভারতের দর ছিল ১৫ টাকা, ৪৭ শতাংশ কম। চীনের মতোই ভারত ও ঢাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণ এ সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছিল।

দুই তরফেই অনেক লবিং করা হয়েছিল। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এর সিইও বিক্রম লিমায়ে ঢাকা তে এসে তদবরি করে যান এবং ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ এর উন্নতির ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, এই দুই সংস্থারই প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভারত কে সমর্থন করেছিল আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ করেছিল চীন কে। চীন তখন এই প্রস্তাব দেয় যে বোর্ডে তাদের একজন প্রতিনিধি হলেই চলবে। তারা এই প্রস্তাব ও দেয় যে প্রথম দশ বছর তারা তাদের বিনিয়োগের উপর কোন লভ্যাংশ নেবে না। ২০ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তে চীন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর ২৫ শতাংশ শেয়ার পেয়ে যায়। ২০১৬ তে এই দুই চীনা কোম্পানি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ এর ৪০ শতাংশ কিনে নেয়। এদের সঙ্গে যুক্ত হয় চাইনিজ ফিনান্সিয়াল ফিউচারস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং দুটি স্থানীয় পাকিস্তানি কোম্পানি।

কিন্তু, বাংলাদেশ এর নিবেশকারীরা অভিযোগ করেন যে চীন তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি এবং তাঁরা কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও দেখতে পারে নি। ফেব্রুয়ারি তে চুক্তি হলেও কাজ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। চীনা কনসোর্টিয়াম ৯৪৭ কোটি টাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কে দেয় শেয়ার কেনা বাবদ। এই কনসোর্টিয়াম অনলাইন কমপ্লেইন পোর্টাল, অ্যানালিটিকাল টুল, প্রশ্ন ও উত্তর এর সুবিধা, ইলেকট্রিকেল ইনফরমেশন ডিসক্লোজার প্লাটফর্ম ইত্যাদির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু একবছর পরও কিছুই করেনি।

অবশেষে জানুয়ারি ২০২০ তে সিএনআই ঢাকা সিলেক্টিভ ইনডেক্স চালু হয়। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি মত প্রশিক্ষন ও যুগ্ম গবেষণা ও ক্রস বর্ডার ইনডেক্স সিস্টেম এখনও চালু করতে পারেনি।

চীন এখনও বলে যাচ্ছে যে এই ধরনের চুক্তি বাংলাদেশ এর ইকুইটি মার্কেট এ অনেক চীনা কোম্পানি কে আনতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে ভারত ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর কৌশলগত শেয়ার বিক্রয় এর প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত এর সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে। কিন্তু, এখন ও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ এই ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।