ভারতের রাজস্থান থেকে ত্রিপুরায় ফিরা ছাত্রছাত্রীদের রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে

প্রসেনজিৎ দাস, আগরতলাঃ অভিভাবকদের সাথে নিয়ে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীরা বুধবার রাজস্থানের কোটা থেকে ফিরেছেন রাজ্যে। গাড়ির চালক এবং বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী সমেত ২৪০ জন রাজ্যে এসেছেন এদিন। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দুটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে সবাইকে রেখেছে উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন|
লকডাউনে ত্রিপুরার প্রচুর নাগরিক বহিঃরাজ্যে আটকে রয়েছেন| আন্তঃরাজ্য যাতায়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড় দিতেই অনেকেই ত্রিপুরায় ফিরছেন| তেমনি, রাজস্থানের কোটায় ত্রিপুরার প্রচুর ছাত্রছাত্রী আটকে ছিলেন| তাঁদের মধ্যে অনেকেই ত্রিপুরায় ফিরতে চাইছিলেন| ত্রিপুরা সরকার তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার বন্দোবস্ত করেছে| রাজস্থান সরকারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পাস এবং বাস-এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল|
গত ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ ১০টি বাসে ১৩৪ জন ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের নিয়ে ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে | ওই দশটি বাসে ২০ জন চালক এবং ১০ জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন| আজ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁরা ত্রিপুরায় এসে পৌঁছেছেন| তাঁদের সকলের নমুনা সংগ্রহে সারা দিন সময় লেগেছে| এদিন অসম-ত্রিপুরার সীমান্ত গেট চোরাইবাড়িতে নমুনা সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন পড়েছিল|
এ-বিষয়ে পানিসাগরের মহকুমাশাসক এল ডার্লং জানান, কোটা থেকে যাঁরা ফিরেছেন তাঁদের সকলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে| তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে| তাঁর কথায়, আজ কোটা থেকে ২৪০ জন এসেছেন| তাঁদের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে| তিনি বলেন, কোটা ফেরত সকলের জন্য পানিসাগর আরসিপিই এবং চোরাইবাড়ি খেরেংজুরিতে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে|
এদিকে, ত্রিপুরায় ফিরে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা খুশি ব্যক্ত করেছেন| কমলপুর নিবাসী রজত দাসের মা বলেন, ত্রিপুরায় ফিরে আসতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে| টানা চারদিন বাসে সফর করে ত্রিপুরায় ফিরেছি| এখন অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছি| তিনি জানান, কোটা থেকে নিজের রাজ্যে ফিরতে বাস ভাড়া বাবদ প্রত্যেকের ৮ হাজার খরচ হয়েছে| তবে, খাবারের জন্য আমাদের ভাবতে হয়নি| পথে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খাবার দিয়েছে| এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল| তাঁর বক্তব্য, সফর অনেক লম্বা ছিল| এছাড়া পথে কোনও সমস্যা হয়নি|

Leave a Comment