ভ্রাম্যমাণ আদালতে আইনজীবীর দণ্ড : মুক্তি দিতে নোটিশ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা অপব্যবহার করে বরিশালে আইনজীবী রবিউল ইসলাম রিপনকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড দিয়েছেন উল্লেখ করে নির্বাহী আদেশে এ দণ্ড স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার আর্জি জানানো হয়েছে নোটিশে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর সংযুক্ত করে রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নোটিশ পাঠান ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

তিনি জানান, মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে দেয়া ৭ দিনের কারাদণ্ড নির্বাহী আদেশে স্থগিত করে শিগগিরই তাকে মুক্তি দিতে এবং মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৭ দিনের সাজা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে অসম্মানজনকভাবে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা গেছে, বরিশালে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে বাধা প্রদান ও ট্যাগ অফিসারকে লাঞ্ছিত করায় এক আইনজীবীকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমূল হুদা শনিবার (২ মে) বিকেলে এ আদেশ দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিসিবির এক পণ্য বিক্রয়কারী ডিলার ট্রাকে ডেফুলিয়া এলাকায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করছিল। এ সময় রবিউল ইসলাম রিপন নামে এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে টিসিবির বিরুদ্ধে অকারণে নানা অভিযোগ করেন। বিষয়টি উপস্থিত ট্যাগ অফিসার সুবোধ মজুমদার মুঠোফোনে টিসিবি কর্মকর্তাকে জানাচ্ছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন অভিযুক্ত আইনজীবী।’

খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাজির হয়ে সরকারি কাজে বাধাদান এবং সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে রবিউল ইসলাম রিপনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইনের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আপনাদের নির্বাহী ক্ষমতাবলে দেশের একজন আইনজীবীর মানবাধিকার রক্ষায় তারা সাজা অবিলম্বে স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অতিমাত্রায় মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা অপপ্রয়োগের বিষয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষমতার অপপ্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।

Leave a Comment