লকডাউন খুলে দেওয়া ও মেঘ দেখে স্কুল ছুটি!

কামরুজ্জামান জানি

ছোট বেলায় আকাশে মেঘ দেখলে প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে অন্য শিক্ষকরা ছাত্র ছাত্রীদের শ্রেণি কক্ষে বসিয়ে চুপ করে বসিয়ে রাখতেন।

ছেলে মেয়রা কথা বললে ধমক দিয়ে আবার চুপ করাতেন। আবার ছেলে মেয়েরা বকবক করতেন, শিক্ষক আবার ধমক দিতেন। একটু পর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আরম্ভ হলো।

শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের সাথে আবার পরামর্শে বসলেন। সবাই একমত হলেন এখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল ছুটি দিলে ছাত্র ছাত্রীরা ভিজে যাবে। তাদের ঠান্ডা জ্বর, সর্দি হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে বৃষ্টি থেমে যাবে। আবার শ্রেণি শিক্ষকেরা যারযার শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চুপচাপ বসে থাকতে বললেন। শিক্ষার্থীরা আগের মতোই শিক্ষকের ধমক খেয়ে চুপ হয়ে যান। আবার বকবক করেন। এবার শিক্ষকরা বিরক্ত হয়ে আবার প্রধান শিক্ষকের সাথে পরামর্শে বসেন। শিক্ষকরা বলেন, বাচ্চাদের বকবকানি আর ভালো লাগেনা। তাই সবাই একমত হয়ে তাদের শর্ত সাপেক্ষ ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা এসে ছাত্র ছাত্রীদের শর্ত দিয়ে বললেন, সবাই আলাদা আলাদা বাড়ি যাবে, মাথায় পলিথিন বেধে রাখবে, সম্ভব হলে ছাতা মাথায় দিবে, পা টিপে টিপে হাটবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

একথা বলে সবাইকে ছুটি দিয়ে দিলেন। আর একটু পরই আরম্ভ হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শিক্ষরা নিরাপদে অফিসে বলে রইলেন। দপ্তরি লাল মিয়াকে দিয়ে পাশের দোকান থেকে একটু পর পর চা বিস্কুট এনে খাচ্ছেন। এদিক ছেলে মেয়েরা বই খাতা সহ বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি গেলেন। কেউ পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে কাঁদা মেখে হাত পা ভেঙ্গে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি গেলেন। এতে কারও কারও জ্বর, কারও সর্দি কাশি দেখা দিলো। অবশ্য এরই মধ্যে শিক্ষকরা তাদের ছাতা নিয়ে আবার কেউ রিকসা নিয়ে নিরাপদে বাড়ি চলে গেলেন।

আমাদের দেশে যখন করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা গানিতিক ভাবে কম ছিলো তখন আমরা কি সুন্দর করে লকডাউন, আইসিউলেশন ও কোয়ারান্টাইনে ছিলাম।

অথচ এখন প্রতিদিন হাজার হাজার লোক আক্রান্ত ও গড়ে প্রায় ৩৫ জনের মৃত্যু হচ্ছে। আর সেই সময়েই আমরা আবার সাভাবিক হয়ে গেলাম।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমার ছোটবেলার সেই মেঘ দেখে স্কুল ছুটির কথাটাই মনে পড়ে গেলো।

লেখকঃ কামরুজ্জামান জানি
সম্পাদক ও প্রকাশক
মুক্তির লড়াই।

Leave a Comment