লালমনিরহাটে প্রথম করোনায় আক্রান্ত পিতা পুত্র সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরলেন

তন্ময় আহমেদ নয়ন,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটে প্রথম করোনায় আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ ফেরত শ্রমিক কামরুল ইসলাম(৩৭) ও তার সংস্পর্শে আসা তার ৭ বছরের পুত্র সালমান হোসেন টানা ২২ দিন করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে সু¯’ হয়ে বাড়ি ফিরলেন।
তারা দুজনেই সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের মোকন্দ দীঘির পাড়(গুড়িয়াদহ) এলাকার বাসিন্ধা।
রোববার (৩ মে) দুপুরে লালমনিরহাট নার্সিং ইন্সটিটিউটের করোনা আইসোলেশন থেকে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল হক ছাড়পত্র দেন।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে এসেই নির্মাণ শ্রমিক কামরুল ইসলাম গত মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের মোকন্দ দীঘির পাড়(গুড়িয়াদহ) এলাকায় আসেন। এর পর তার জ্বর, সর্দি, ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকরা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠায়। পরে শনিবার (১১এপ্রিল) তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হলে শ্রমিক কামরুল ইসলামকে লালমনিরহাট নার্সিং ইন্সটিটিউটের আইসোলেশনে ওয়ার্ডে ভর্তি করান।
পরে তার পরিবারসহ ৬০টি বাড়ি লকডাউন করে জেলা প্রশাসন। ওই দিন সংস্পর্শে আসা তার ছেলেসহ কামরুল ইসলামের নমুনা সংগ্রহ করে চিকিৎসকরা। পরে তারও রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। তাকেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করান।
এদিকে দীর্ঘ ২২দিন চিকিৎসায় করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তাদের শারীরিক অব¯’ার উন্নতি এবং পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় পিতা-পুত্রকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল ছেড়ে যাবার সময় শুভে”ছা জানানো হয় পিতা পুত্রকে।
এ সময় উপ¯ি’ত ছিলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভেকেট মতিয়ার রহমান, হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনসহ অনেকেই।
নির্মাণ শ্রমিক কামরুল ইসলাম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মনে করেছিলাম আমরা বুঝি আর বাঁচবো না। কিš‘ চিকিৎসকরা যে সেবা দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে সু¯’ করে তুলেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আরো বলেন, সর্তক না থাকার কারণেই আমরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সবাইকে সর্তক হয়ে চলতে হবে, না হলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ২২ দিন চিকিৎসার পর ২য় বার নমুনা পরীক্ষায় সব রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় ও তাদের শারীরিক অব¯’ার উন্নতি দেখে পিতা-পুত্র দুই জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ জেলায় তিন আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুইজন ছাড়পত্র পেল। এ ছাড়াও আদিতমারীর তৃতীয় ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হ”েছ। তবে তিনি মোটামুটি সু¯’ রয়েছেন। তার আরো দুটি পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Comment