শৈশবের স্মৃতি

সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী
(আগরতলা 04/07/2020)

এই মেঠোপথ ধরে
শৈশবের স্কুলে যাওয়া,
বুড়িমার বেলতলা দিয়ে
বাবুদের সান বাঁধানো ঘাটের গা ঘঁষে
সোজা একটু গেলেই টিনের ছাউনিতে
আমাদের সেই সাহারপদুয়া স্কুল |

সময়টা অন্যরকম ছিলো
পাঠশালা যাতায়াত
পড়ার ঘর
এতটুকু চৌহরদীতে ছিলো আমার কৈশোর,
এর বাইরে
আরেকটা জগৎ আছে
আছে আরেকটা পৃথিবী
সেটি আমার জানা ছিলোনা |

কানুপুরের স্যার এর ভূগোল পাঠ
তলাগ্রাম এর শম্ভু স্যার
এ এক আতঙ্কের নাম,
নিয়তই বেত্রাঘাতের যন্ত্রনায়
জীবনটা ত্রস্ত হয়ে থাকতো
শাসনটা ছিলো আপোষহীন |

বিদ্যালয় পালানোর কথা
অনেকবার মাথায় এসেছিলো,
কিন্তু,
যাবো কোথায় ?
শাসনের বেড়াজাল ডিঙিয়ে যাওয়াটা
অনেকটাই অসম্ভব ছিলো,
এর পর
পরীক্ষার অন্তহীন উপদ্রব
এ যেনো মরার উপরে খাড়ার ঘা |

অংকটা
বড় বেরসিক ছিলো
আমি তাকে চুরি বিদ্যার প্রথম পাঠ বলতাম,
কেননা
দুধের সাথে জল মিশিয়ে
লাভক্ষতির হিসাবটা
মূলত এখান থেকে শুরু হতো,
যারা
অংক ভালো জানতো
মনে হয় সে জন্যই
তাদের অনেকেই আজ আমলা
বড় অফিসার |

ওরা
পকেট ভারী করার
জাদু বিদ্যাটা
বেশ রপ্ত করতে পারঙ্গম ছিলো,
ওরা
সুদকষাটাও নিমিষেই করতে দেখেছি,
আমি তাকিয়ে অবাক ভাবতাম
বিদ্যালয় যদি হয়
চুরি করার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
তা হলে
আমাদের আগামীটা কেমন জানি হবে ?

আজ
এ পরিণত সময়ে এসে
পেছনে তাকিয়ে দেখি
আমাদের অতীতটা যেনো একা হয়ে গেছে,
হাতছানি দিয়ে
মাঝে মাঝে নিয়ে যায়
আমার ফেলে আসা সে
বিদ্যালয়ের ভাঙ্গাচুরা টেবিলের পাশে
যেখানে
এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
বেত হাতে বসে আছে
কানুপুরের স্যার |

Leave a Comment