সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর বাজেট প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টারঃ
করোনার এই মহামারীতে ধনিক তোষণের উচ্চাভিলাসী এই বাজেট প্রত্যাখান করুন
পুরানো ধারাই অব্যাহত থেকেছে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি-গবেষণায়
সুযোগ বেড়েছে ধনী ব্যবসায়ী ও উচ্চ আয়ের মানুষের

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর সভাপতি আল কাদেরি জয় এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে ২০২০-২০২১ সালের প্রস্তাবিত এই বাজেটকে ধনিক তোষণের উচ্চাভিলাসী বাজেট বলে অভিহিত করেছেন। যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তার উপস্থাপনায় নতুনত্ব থাকলেও, প্রায় দেড় শতাধিক বার কোভিড বা করোনা উল্লেখ করা হলেও কার্যত সেটি একটি গতানুগতিক বাজেট। এই বাজেটে করোনার প্রভাবে বিধ্বস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংকটে পর্যুদস্থ জনগণের দুর্দশা লাঘবে কোনো নির্দেশনা নেই। করোনা মরণঘাতী রোগের শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা খাতও পায়নি যথেষ্ট গুরুত্ব।
বাজেটে অর্থমন্ত্রী মোট ব্যয়ের প্রস্তাব করেছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে ৪৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বা প্রায় ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সংশোধিত বাজেট থেকে এটি প্রায় ৬৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বা প্রায় ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। বাজেটে অর্থমন্ত্রীর দেয়া ব্যয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজস্ব আহরণ। এজন্য আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও রয়েছে সংশয়। অর্থমন্ত্রী কিসের ভিত্তিতে আশা করছেন যে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয় কম হবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, তারও ব্যাখ্যা বাজেটে নেই। অথচ এই আয়ের ওপর ভিত্তি করেই চলতি বাজেটের ব্যয় কমিয়েছেন প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। তাতে বাজেট ঘাটতি হবে মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ। অথচ বিশেষজ্ঞরা, এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর) মনে করে, এবার রাজস্ব আয়ে ঘাটতি কম করে হলেও ৮০ হাজার কোটি টাকা হবে। কারও কারও মতে, ঘাটতি আরও বেশি হবে। আর নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হতে হবে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। এ ধরণের অবাস্তব পরিকল্পনা করে সমগ্র অর্থনীতিকেই ঝুকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য তো আরও বিশাল, ৮ দশমিক ২ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির নেশায় অন্ধ সরকার করোনা থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও গবেষণাসহ জনস্বার্থের সব কটি খাত চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৯-২০ সালের জন্য জিডিপির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে আনা হয় ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। আগামী অর্থবছরে (২০২০-২১) এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
দেশে করোনা সংকটের কারণে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে, হাসপাতালে সিট নেই, ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীর চরম সংকট, পর্যাপ্ত করোনা পরীক্ষা নেই, লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরছে, বিভিন্ন গবেষণা জরিপে দেখা যাচ্ছে ৩৫ ভাগ পরিবারের কমপক্ষে ১ জন চাকুরি হারিয়েছে। সবজি, মাছ, দুধ, মুরগি, ফলসহ কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, খামারীরা রাস্তায় দুধ-ডিম-মুরগী ফেলে দিচ্ছে। শিক্ষক, স্বাস্থ্য কর্মী, শ্রমিকেরা বেতন ও মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছে। বাজেট প্রস্তাবনায় এই মানুষদের দিকেই তো বেশী নজর দেয়া দরকার ছিল। বাজেটের বা জিডিপির সিংহভাগ টাকাই তো এই সাধারণ মানুষেরা যোগান দেয়। কিন্ত যাদের জন্য বাজেট তাদের জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও দেশের আমলা খাতে বাজেটের প্রায় ২০ ভাগ বা ১ লাখ ১৩ হাজার ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রের ৫ টাকার মধ্যে ১ টাকাই চলে যাবে এই দুর্নীতিবাজ আমলাতন্ত্রের পিছনে। অথচ এরা হচ্ছে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ১.২৩ শতাংশ। আর শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জিডিপিতে ১৪% অবদান রাখা, দেশের ৪০ ভাগের কর্মসংস্থান, ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়াসহ সিংহভাগ মানুষ যে খাতের উপর নির্ভরশীল সেই কৃষি খাতে বরাদ্দ টাকার অংক বাড়লেও আনুপাতিক হারে গতবারের তুলনায় কমেছে। গতবার বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ৫.৬% এবার ৫.২৭% অর্থ্যাৎ ২৯ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। করোনা সংকটে দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবারও জিডিপি’র ১% এর নীচে। টাকার অংকে মাত্র ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা যা জাতীয় বাজেটের ৫.১৪% এবং জিডিপির ০.৯২%। ফলে প্রস্তাবিত বাজেট দিয়ে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনকল্যান নিশ্চিত না করে লুটেরা ধনিক শ্রেণি, কালো টাকার মালিক, ব্যাংক লুটকারি ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে চাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য শিক্ষাখাতে ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ২৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে আট হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে তা সাত হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট ব্যয়ের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। শিক্ষা ও প্রযুক্তি মিলিয়ে মোট বাজেটের ১৫.১ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও একক খাত হিসেব

Leave a Comment